সাবেক বিচারপতিকে দুদক চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ নিয়ে কেন প্রশ্ন উঠছে ?
সাবেক আপিল বিভাগের বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে দুদক চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ায় মূলত তিনটি কারণে প্রশ্ন উঠছে—
সংবিধানের ৯৯(১) অনুচ্ছেদের সম্ভাব্য বাধা
এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোনো লাভজনক পদ গ্রহণ করতে পারেন না—শুধু বিচারিক বা আধা-বিচারিক পদ ব্যতিক্রম। সমালোচকদের মতে, দুদক প্রধানত অনুসন্ধান ও তদন্তকারী সংস্থা; আদালত বা ট্রাইব্যুনাল নয়। তাই চেয়ারম্যান পদটি ওই ব্যতিক্রমের মধ্যে পড়ে কি না, সেটিই প্রধান আইনি প্রশ্ন।দুদক চেয়ারম্যানের পদ ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মে লাভজনক পদ’ কি না
নতুন চেয়ারম্যান রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে আপিল বিভাগের বিচারপতির সমান বেতন-ভাতা ও সুবিধা পাবেন। ফলে সমালোচকেরা এটিকে লাভজনক পদ বলছেন। তবে আগের একটি মামলায় আদালত দুদককে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান বিবেচনা করে চেয়ারম্যানের পদকে সরাসরি ‘প্রজাতন্ত্রের কর্ম’ হিসেবে গণ্য করেননি। তাই বিষয়টি পুরোপুরি নিষ্পত্তিহীন নয়; দুই ধরনের আইনি ব্যাখ্যা রয়েছে।বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নৈতিক প্রশ্ন
কর্মরত বিচারপতিরা যদি অবসরের পর সরকারি নিয়োগ পাওয়ার প্রত্যাশা করেন, তাহলে বিচারিক নিরপেক্ষতা সম্পর্কে জনমনে সন্দেহ তৈরি হতে পারে। এ ধরনের নিয়োগকে “অবসর-পরবর্তী পুরস্কার” হিসেবে দেখা হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালকও এটিকে সাংবিধানিক দ্বন্দ্ব ও স্বার্থসংঘাতের সম্ভাবনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। টিআইবির বক্তব্য
আইনজ্ঞরা বলছেন, দুদক কোনো বিচার বিভাগীয় বা আধা বিচার বিভাগীয় প্রতিষ্ঠান নয়। একইভাবে এর চেয়ারম্যানও বিচার বিভাগীয় বা আধা বিচার বিভাগীয় কোনো পদ নয়। এ কারণেই দুদক চেয়ারম্যান হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
তবে সরকার দুদক আইন, ২০০৪-এর নির্ধারিত বাছাইপ্রক্রিয়া অনুসরণ করেই রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে নিয়োগ দিয়েছে। ১৭ আগস্ট ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আসাদুজ্জামানকে প্রথমে কমিশনার এবং পরে চেয়ারম্যান করা হয়েছে। নিয়োগের বিবরণ