এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের জুডিশিয়াল পাওয়ার এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের এক্সিকিউটিভ পাওয়ার সম্পর্কে বলুন।
বাংলাদেশে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সম্পূর্ণ আলাদা কাঠামোর কর্মকর্তা। সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে কিছু আইনে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে সীমিত বিচারিক ক্ষমতা এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে কিছু সহায়ক বা প্রশাসনিক ধরনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সংবিধান, অনুচ্ছেদ ২২
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের জুডিশিয়াল পাওয়ার
এগুলো মূলত প্রতিরোধমূলক ও সীমিত বিচারিক/কোয়াসি-জুডিশিয়াল ক্ষমতা:
শান্তি রক্ষার জন্য মুচলেকা গ্রহণ—ধারা ১০৭।
সন্দেহভাজন ও অভ্যাসগত অপরাধীর কাছ থেকে সদাচরণের মুচলেকা—ধারা ১০৯–১১০।
জনউপদ্রব বা Public Nuisance অপসারণের আদেশ—ধারা ১৩৩ ও ১৪২।
বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হলে ১৪৪ ধারা জারি।
জমি বা পানি নিয়ে বিরোধে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা থাকলে দখলসংক্রান্ত সাময়িক আদেশ—ধারা ১৪৫ ও ১৪৭। এখানে মালিকানা নয়, মূলত কার দখলে ছিল সেটি বিবেচিত হয়।
বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ এবং প্রয়োজনীয় শক্তি ব্যবহারের নির্দেশ—ধারা ১২৭–১৩০।
নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তল্লাশি পরোয়ানা, গ্রেপ্তার, হেফাজত ও সুরতহাল/ইনকোয়েস্টের ক্ষমতা।
মোবাইল কোর্ট আইনে তফসিলভুক্ত অপরাধ ঘটনাস্থলে সংঘটিত বা উদ্ঘাটিত হলে তা আমলে নিয়ে সীমিত বিচার করতে পারেন। অভিযোগ স্বীকার করলে দণ্ড দিতে পারেন; কারাদণ্ড সর্বোচ্চ দুই বছর। অভিযোগ অস্বীকার করে দেওয়া ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে মামলাটি উপযুক্ত আদালতে পাঠাতে হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭ ধারা, ১৩৩ ধারা, ১৪৪ ধারা, ১৪৫ ধারা, মোবাইল কোর্ট আইনের ৬–৮ ধারা
গুরুত্বপূর্ণ: সব এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১৪৪ বা ১৪৫ ধারার ক্ষমতা পান না; আইনের বিধান অনুযায়ী বিশেষ ক্ষমতায়ন প্রয়োজন হতে পারে। তাঁরা সাধারণ ফৌজদারি মামলায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মতো পূর্ণাঙ্গ বিচার, সাক্ষ্যগ্রহণ ও নিয়মিত ট্রায়াল করতে পারেন না।
জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের এক্সিকিউটিভ পাওয়ার
কঠোর আইনগত অর্থে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সাধারণ নির্বাহী বা প্রশাসনিক ক্ষমতা নেই। তাঁর প্রধান কাজ হলো:
অপরাধ আমলে নেওয়া;
পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া;
গ্রেপ্তার ও তল্লাশি পরোয়ানা জারি;
রিমান্ড, জামিন ও কারাগারে পাঠানোর আদেশ;
অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, বিচার ও দণ্ড প্রদান।
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৬(৩) ধারা, ১৬৭ ধারা, ১৯০ ধারা
তবে কিছু ক্ষমতা বাইরে থেকে নির্বাহী ধরনের মনে হতে পারে:
নিজের সামনে অপরাধ সংঘটিত হলে নিজে গ্রেপ্তার বা গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিতে পারেন—ধারা ৬৪।
যার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করতে পারেন, তাকে নিজের উপস্থিতিতে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিতে পারেন—ধারা ৬৫।
চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অধীনস্থ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের মধ্যে মামলা ও কাজ বণ্টন করেন। এটি বিচার বিভাগীয় প্রশাসন, রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা নয়।
ধারা ৬৪, ধারা ৬৫
সহজ ভাষায় পার্থক্য
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট: আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধ করেন; বিশেষ আইনে সীমিত বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করেন।
জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট: অপরাধের নিয়মিত বিচার করেন; তাঁর আদেশ বাস্তবায়নের জন্য কিছু সহায়ক ক্ষমতা থাকলেও সাধারণ নির্বাহী ক্ষমতা নেই।
ভাইভায় সংক্ষিপ্ত উত্তর:
“এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মূলত নির্বাহী কর্মকর্তা, তবে ফৌজদারি কার্যবিধি ও মোবাইল কোর্ট আইনে তাঁকে সীমিত প্রতিরোধমূলক ও বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সাধারণ নির্বাহী ক্ষমতা নেই; গ্রেপ্তার, তদন্তের নির্দেশ বা বিচার বিভাগীয় প্রশাসনের ক্ষমতাগুলো তাঁর বিচারিক দায়িত্বের সহায়ক ক্ষমতা।”