গত ১১ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে নতুন চার সদস্য শপথ নিয়েছেন। (সোর্স- প্রথম আলো)
পিএসসির নতুন চার সদস্য
৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পিএসসিতে নিয়োগপ্রাপ্ত নতুন ৪ সদস্যের বিবরণ
ড. মো. ফেরদৌস হোসেন
ড. মো. ফেরদৌস হোসেন — সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
বিষয়
তথ্য
নাম
ড. মো. ফেরদৌস হোসেন (Dr. Md. Ferdous Hossain)
সরকারি পরিচিতি নং
৪৮৪৩
ক্যাডার
বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার
চাকরিতে যোগদান
ফেব্রুয়ারি ১৯৮৮, Assistant Commissioner & Magistrate হিসেবে
বিসিএস ব্যাচ
যোগদানের সময় বিবেচনায় ৭ম বিসিএস (১৯৮৫ ব্যাচ) হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা; তবে তাঁর নামে সরাসরি সরকারি নথিতে ব্যাচ নম্বরটি এখনও পাইনি
অবসরকালীন/পরবর্তী পরিচয়
অতিরিক্ত সচিব (অব.) হিসেবে তাঁর জীবনীতে উল্লেখ আছে
বর্তমান পদ
সদস্য, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC)
নিয়োগ
৬ আগস্ট ২০২৬
পিএসসি সদস্যের মেয়াদ
দায়িত্ব গ্রহণ থেকে ৫ বছর অথবা ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত—যেটি আগে ঘটে
২০২৫ সালে রাজনৈতিক/প্রশাসনিক কারণে পদোন্নতিবঞ্চিত অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূতাপেক্ষ পদোন্নতির তালিকায়ও তাঁর নাম “ড. মো. ফেরদৌস হোসেন (৪৮৪৩)” হিসেবে পাওয়া যায়। (Jugantor)
শিক্ষাগত যোগ্যতা
তাঁর পুরোনো সরকারি প্রকল্পের জীবনী অনুযায়ী—
BSS (Honours), International Relations — University of Dhaka, 1982
MSS, International Relations — University of Dhaka, 1983
Post Graduate Diploma in Development and Planning — Academy of Planning and Development, 1998
PhD — Institute of Bangladesh Studies (IBS), University of Rajshahi
তাঁর পিএইচডি গবেষণার বিষয় ছিল:
“A Study on Japan-Bangladesh Economic Relations.”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের IBS-এর সরকারি thesis catalogue-এ Md. Ferdous Hossain, 2004, ৩৬১ পৃষ্ঠার এই গবেষণাটি তালিকাভুক্ত রয়েছে। (University of Rajshahi)
একটি পুরোনো SPFMSP জীবনীতে PhD সম্পন্নের বছর ২০০৫ বলা হয়েছে। সম্ভবত thesis-এর catalogue year ২০০৪ এবং degree completion/award ২০০৫—এই কারণে দুই উৎসে এক বছরের পার্থক্য হয়েছে। (ACT)
প্রশাসনিক চাকরিজীবন
তিনি ১৯৮৮ সালে BCS Administration Cadre-এ Assistant Commissioner & Magistrate হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। মাঠ প্রশাসনে তিনি বিভিন্ন সময়ে—
তাঁর কর্মজীবনের একটি বিশেষ দিক হলো Public Financial Management ও Development Administration-এ দীর্ঘ অভিজ্ঞতা।
তিনি কাজ করেছেন—
Deepening Medium Term Budgetary Framework (DMTBF) Project, Finance Division
Strengthening Public Financial Management for Social Protection (SPFMSP) Project
Basic Literacy Project, Ministry of Primary and Mass Education
Strengthening/Digital Land Management Project, Ministry of Land
SPFMSP প্রকল্পে তিনি Executive Director (ED) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৯ সালের প্রকল্প-জীবনীতে এই পদটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। (ACT)
একটি পেশাজীবী ডিরেক্টরিতেও তাঁকে “Executive Director (Joint Secretary), SPFMSP Project” হিসেবে পাওয়া যায়। (pdfcoffee.com)
গবেষণা ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে আগ্রহ
তাঁর PhD-র বিষয় থেকেই বোঝা যায় তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল Japan–Bangladesh Economic Relations-এ। তাঁর পেশাগত জীবনীতে আরও বলা হয়েছে যে তিনি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন এবং আরবি ও জাপানি ভাষায় প্রশিক্ষণ/সার্টিফিকেট অর্জন করেছেন। (Stream Connect)
২০২৫ সালের ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিগত সময়ে পদোন্নতিবঞ্চিত ৭৬৪ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়ার তালিকায় তাঁর নাম ও পরিচিতি নম্বর পাওয়া যায়:
এটি তাঁর পরিচিতি নম্বর ৪৮৪৩ নিশ্চিত করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ্য উৎসগুলোর একটি।
বর্তমানে তিনি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
সবচেয়ে সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী ৬ আগস্ট ২০২৬ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে তাঁকে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৩৮(১) অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি PSC-এর চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ করেন।
অর্থাৎ ৪৮তম বিসিএস ভাইভা বা পরবর্তী পিএসসি কার্যক্রমে তিনি বোর্ড সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হতে পারেন।১৯৮৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে AC & Magistrate হিসেবে প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান—এই joining timeline ৭ম বিসিএস (১৯৮৫ ব্যাচ)-এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মেলে। তাই তিনি ৭ম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। (Stream Connect)
ভাইভার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: তাঁর পড়াশোনা যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের International Relations, PhD যেহেতু Japan–Bangladesh Economic Relations, আর চাকরিজীবনে Finance Division, ERD, PFM, Land Management-এ কাজ করেছেন—তিনি বোর্ডে থাকলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্ক, অর্থনীতি, বাজেট/PFM, প্রশাসন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা থেকে প্রশ্ন করার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো বিশেষভাবে প্রস্তুত রাখা ভালো।
জনাব মোহাম্মদ আলী (৫৭৭৮) — সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
বিষয়
তথ্য
নাম
জনাব মোহাম্মদ আলী
পরিচিতি নং
৫৭৭৮
ক্যাডার
বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডার
২০১২–১৪ সময়কালে
বরগুনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ADM) হিসেবে দায়িত্ব
নির্বাচনী দায়িত্ব
২০১৪ সালে বরগুনায় District Returning Officer হিসেবেও দায়িত্ব পালন
পরবর্তী পদায়ন
জেলা পরিষদের সচিব হিসেবে পদায়নের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে ন্যস্ত
বর্তমান পদ
সদস্য, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC)
নিয়োগের তারিখ
৬ আগস্ট ২০২৬
চাকরিজীবনের নিশ্চিত তথ্য
১. বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা ২০১৫ সালের সরকারি গেজেটে তাঁকে সরাসরি “বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের” কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই নথিতে তাঁর নাম ও পরিচিতি নম্বরও রয়েছে—“জনাব মোহাম্মদ আলী (৫৭৭৮)”। (Department of Printing and Publications)
২. বরগুনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের PACC-এর ২০১৩ সালের তালিকায় পাওয়া যায়:
5778 — MOHAMMAD ALI — ADM — DC OFFICE BARGUNA
অর্থাৎ তিনি সে সময় বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে Additional District Magistrate হিসেবে কর্মরত ছিলেন। (YUMPU)
৩. অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), বরগুনা প্রকাশিত সংবাদেও তাঁকে বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আলী হিসেবে পাওয়া যায়। (Prothom Alo)
৪. নির্বাচন পরিচালনার অভিজ্ঞতা ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনের সময় তিনি বরগুনার Additional Deputy Commissioner (General)-এর পাশাপাশি District Returning Officer হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। (Dhaka Tribune)
৫. জেলা পরিষদের সচিব হিসেবে পদায়ন ২২ ডিসেম্বর ২০১৪-এর একটি আদেশ, যা ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫-এর বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত হয়, সেখানে বলা হয়েছে—
“জনাব মোহাম্মদ আলী (৫৭৭৮), অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, বরগুনা—সচিব, জেলা পরিষদ হিসেবে পদায়নের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগে ন্যস্ত।” (Department of Printing and Publications)
বর্তমানে পিএসসি সদস্য
সবচেয়ে সাম্প্রতিক তথ্য হলো, ৬ আগস্ট ২০২৬ সরকার বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনে চারজন নতুন সদস্য নিয়োগ দেয়। তাঁদের একজন মোহাম্মদ আলী। অন্য তিনজন হলেন মো. নজরুল ইসলাম, ড. মো. ফেরদৌস হোসেন এবং ইয়াসমিন গফুর। (duaa-news.com)
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৩৮(১) অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাঁদের নিয়োগ দিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে ৫ বছর অথবা ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত—যেটি আগে ঘটে, তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। (duaa-news.com)
ভাইভার জন্য পরিচয় এক লাইনে: “জনাব মোহাম্মদ আলী, পরিচিতি নং ৫৭৭৮, বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের সাবেক কর্মকর্তা। তিনি বরগুনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জেলা পরিষদের সচিব হিসেবেও পদায়িত হন। ৬ আগস্ট ২০২৬ তিনি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।”
জনাব মোঃ নজরুল ইসলাম (পরিচিতি নং ৫৮৪৭) – সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
বিষয়
তথ্য
নাম
মোঃ নজরুল ইসলাম
পরিচিতি নং
৫৮৪৭
ক্যাডার
বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার
পূর্ব পদ
যুগ্মসচিব
২০২৩
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে (IRD) যুগ্মসচিব হিসেবে যোগদান
২০২৪
পরিচালক, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর
পদোন্নতি
২৫ আগস্ট ২০২৪-এ অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্তদের তালিকায়
বর্তমান অবস্থান
সদস্য, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC)—৬ আগস্ট ২০২৬ নিয়োগপ্রাপ্ত চার সদস্যের একজন
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সরকারি নোটিশে সরাসরি “জনাব মো: নজরুল ইসলাম, যুগ্মসচিব (পরিচিত নম্বর: ৫৮৪৭)” লেখা রয়েছে। তাঁর যোগদানপত্র প্রকাশিত হয় ১৩ নভেম্বর ২০২৩। তাই পরিচিতি নম্বরটির ব্যাপারে এখানে কোনো অস্পষ্টতা নেই। (Inland Revenue Department)
এরপর ২৫ আগস্ট ২০২৪ প্রশাসনে ১৩১ কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হলে তালিকায় “মোঃ নজরুল ইসলাম (৫৮৪৭), পরিচালক, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর, ঢাকা” হিসেবে তাঁর নাম পাওয়া যায়। (www.economictimes24.com)
শিক্ষাগত ও পূর্ববর্তী কর্মজীবন
ICMAB-এর ২০২৪ সালের একটি সরকারি nominee profile-এ Md. Nazrul Islam, Joint Secretary (Admin), Ministry of Education-এর জীবনবৃত্তান্ত পাওয়া যায়। ওই profile অনুযায়ী তিনি—
এবং পরে Joint Secretary (Admin), Ministry of Education হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। (ICMAB)
তবে এখানে একটি সতর্কতা রাখছি: ICMAB-এর ওই জীবনীতে পরিচিতি নম্বর ৫৮৪৭ লেখা নেই। পদ, নাম ও ক্যারিয়ার-টাইমলাইন ৫৮৪৭-এর রেকর্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও এই শিক্ষাগত তথ্যগুলোকে আমি সরকারি ID-যুক্ত নথির মতো শতভাগ নিশ্চিত পর্যায়ে রাখছি না।
বর্তমানে পিএসসি সদস্য
৬ আগস্ট ২০২৬ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের নতুন চার সদস্য হিসেবে মো. নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, মো. ফেরদৌস হোসেন ও ইয়াসমিন গফুর নিয়োগ পান। তাঁদের মেয়াদ দায়িত্ব গ্রহণ থেকে পাঁচ বছর অথবা ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত—যেটি আগে ঘটে। (খোলা কাগজ অনলাইন)
ভাইভার জন্য সংক্ষিপ্ত পরিচয়: “জনাব মোঃ নজরুল ইসলাম, পরিচিতি নং ৫৮৪৭, বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি মাঠ প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, ঢাকা জেলা পরিষদ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পান এবং ৬ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।”
BAF Shaheen School; পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে Zoology-তে Master's
উল্লেখযোগ্য মাঠপদ
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বগুড়া; পরে পুলিশ সুপার, গাজীপুর
গাজীপুর SP
১৮ মার্চ ২০০২ – ১৪ জুন ২০০৪
SB
Commandant, Special Branch Training School
RAB
Director (Additional DIG) হিসেবে দায়িত্ব
২০১৭ সালের পদ
অতিরিক্ত ডিআইজি, SB Training School
২০২৫
ভূতাপেক্ষভাবে অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি
বর্তমান পরিচয়
অতিরিক্ত আইজিপি (অব.) এবং সদস্য, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC)
BPSC নিয়োগ
৬ আগস্ট ২০২৬
শিক্ষাজীবন ও বিসিএস
২০১৪ সালে The Daily Star-কে দেওয়া তাঁর নিজের সাক্ষাৎকারে ইয়াসমিন গফুর জানান, তিনি BAF Shaheen School-এ পড়েছেন এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে Zoology বিষয়ে Master's-এর ছাত্রী ছিলেন। ওই সময় বন্ধুরা ৭ম বিসিএস (১৯৮৫)-এর ফরম পূরণ করলে তিনিও আবেদন করেন এবং তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁসহ চারজন নারী উত্তীর্ণ হন। (The Daily Star)
তবে এখানে একটি তথ্যগত অসঙ্গতি আছে: ২০১৭ সালের bdnews24-এর একটি প্রতিবেদনে তাঁকে “৮৯তম ব্যাচের (১০ম বিসিএস)” বলা হয়েছে। (bdnews24.com) যেহেতু তাঁর নিজের সাক্ষাৎকারে ৭ম বিসিএস (১৯৮৫)-এর কথা সরাসরি এসেছে, সেটি শক্তিশালী প্রাথমিক উৎস; কিন্তু সরকারি service book/BCS gazette না পাওয়া পর্যন্ত আমি ব্যাচের বিষয়টিকে শতভাগ চূড়ান্ত বলছি না।
পুলিশে কর্মজীবন
১৯৯৪ সালে বগুড়ায় Additional SP হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা তিনি নিজেই বলেছেন। সেখানে দায়িত্ব নেওয়ার সময় নারী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নানা সামাজিক প্রতিবন্ধকতার অভিজ্ঞতার কথাও তাঁর সাক্ষাৎকারে আছে। (The Daily Star)
এরপর তিনি গাজীপুরের পুলিশ সুপার (SP) হন। গাজীপুর জেলা পুলিশের সরকারি তালিকা অনুযায়ী তাঁর মেয়াদ ছিল ১৮ মার্চ ২০০২ থেকে ১৪ জুন ২০০৪। (Gazipur Police)
গাজীপুরে তাঁর সময় নারী পোশাকশ্রমিকদের রাতে/ভোরে কর্মস্থল থেকে ফেরার সময় নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা দেখা দিলে তিনি কারখানা মালিক ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে সময়সূচি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে নিজের সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন। (The Daily Star)
Special Branch ও RAB
২০০৮ সালে তিনি Special Branch Training School-এর Commandant ছিলেন এবং পুলিশের intelligence, surveillance, immigration ও VVIP protection-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। (The Daily Star)
২০০৯ সালে Additional DIG থাকা অবস্থায় SB Training School-এর Commandant পদ থেকে তাঁকে RAB-এর Director হিসেবে বদলি করা হয়। (The Daily Star)
২০১৪ সালেও তাঁকে Additional DIG ও Commandant, Special Branch Training School হিসেবে পাওয়া যায়। (The Daily Star)
কেন তাঁকে “Iron Lady” বলা হতো?
২০০৫ সালের SAARC Summit-এর সময় dignitary-দের নিরাপত্তায় plain-clothes police deployment-এর দায়িত্বে ছিলেন বলে তিনি জানিয়েছেন। কঠোর পরিশ্রম ও দীর্ঘ সময় কাজ করার কারণে সহকর্মীরা তাঁকে “Iron Lady” বলে ডাকতেন। (The Daily Star)
২ জুলাই ২০১৭ সরকারের আদেশে ইয়াসমিন গফুর এবং আরেক অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। তখন তিনি ঢাকার SB Training School-এর Commandant ও Additional DIG ছিলেন। Public Servants (Retirement) Act, 1974-এর ধারা ৯(২) প্রয়োগের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। (The Daily Star)
২০২৫ সালে অতিরিক্ত আইজিপি পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইয়াসমিন গফুরসহ কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত/পদোন্নতিবঞ্চিত পুলিশ কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ Additional IGP পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এই কারণেই সাম্প্রতিক সংবাদ ও প্রতিষ্ঠানের তালিকায় তাঁকে “Additional IGP (Retd.)” বলা হচ্ছে। (Daily Times Of Bangladesh)
তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার্স কল্যাণ সমিতির সহসভাপতি হিসেবেও সক্রিয় এবং পুলিশ সংস্কার নিয়ে প্রকাশ্যে কাজ করছেন। ২০২৫ সালে তিনি “Bangladesh Police Reform: Challenges and Way Forward” বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। (The Daily Star)
বর্তমানে BPSC সদস্য
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাম্প্রতিক তথ্য হলো—৬ আগস্ট ২০২৬ রাষ্ট্রপতি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৩৮(১) অনুযায়ী ইয়াসমিন গফুরকে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে মো. নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী ও ড. মো. ফেরদৌস হোসেনও সদস্য হয়েছেন। (Jagonews24)
ভাইভার জন্য তাঁর পরিচয়
“মিজ্ ইয়াসমিন গফুর, পিপিএম (সেবা), বাংলাদেশ পুলিশের একজন সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে Zoology বিষয়ে পড়াশোনা করেন। বগুড়ায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং ২০০২–২০০৪ সালে গাজীপুরের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে Special Branch Training School-এর Commandant এবং RAB-এর Directorসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালে Additional DIG থাকা অবস্থায় অবসরে যান এবং ২০২৫ সালে ভূতাপেক্ষভাবে Additional IGP পদে পদোন্নতি পান। ৬ আগস্ট ২০২৬ তিনি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন।”
ভাইভার প্রস্তুতির জন্য বিশেষভাবে পড়বেন: তাঁর পুলিশ ব্যাকগ্রাউন্ড বিবেচনায় Police Act/PRB, পুলিশ সংস্কার, নারী পুলিশ, community policing, intelligence ও SB, RAB, মানবাধিকার, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পুলিশ, police accountability এবং নারী ও শিশু নিরাপত্তা—এসব বিষয় থেকে প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা বেশি।