ভনা, দেশের মুদ্রার বিনিময়মূল্য বাড়লেই দেশ উন্নত হচ্ছে—এ সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। মুদ্রার মূল্য অর্থনীতির একটি সূচক মাত্র; এটি সামগ্রিক উন্নয়নের পরিমাপক নয়।
মুদ্রার মূল্য কেন বাড়তে পারে?
রপ্তানি ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি;
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি;
উচ্চ সুদের হার;
রেমিট্যান্স বৃদ্ধি;
আমদানি কমে যাওয়া;
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাজারে হস্তক্ষেপ;
সরকার কৃত্রিমভাবে বিনিময় হার নির্ধারণ করলে।
এগুলোর কোনোটি সাময়িক হলেও মুদ্রার মূল্য বাড়তে পারে।
শক্তিশালী মুদ্রার সুবিধা
আমদানিকৃত পণ্য তুলনামূলক সস্তা হয়;
বিদেশি ঋণ পরিশোধের ব্যয় কমে;
বিদেশে ভ্রমণ ও পড়াশোনার খরচ কমে;
আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।
অসুবিধা
দেশের রপ্তানি বিদেশিদের কাছে ব্যয়বহুল হয়;
রপ্তানি প্রতিযোগিতা কমতে পারে;
প্রবাসী আয়ের টাকায় রূপান্তরিত মূল্য কমে;
দেশীয় শিল্প আমদানির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে, জাপান অত্যন্ত উন্নত দেশ হলেও জাপানি ইয়েনের একক মূল্য বাংলাদেশি টাকার চেয়ে কম। আবার কোনো অনুন্নত দেশ সরকারিভাবে মুদ্রার উচ্চ বিনিময়মূল্য নির্ধারণ করলেও তাকে উন্নত দেশ বলা যায় না।
উন্নয়ন পরিমাপের প্রধান সূচক
প্রকৃত মাথাপিছু আয়;
উৎপাদনশীলতা ও কর্মসংস্থান;
দারিদ্র্য ও বৈষম্যের হার;
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা;
মানব উন্নয়ন সূচক—HDI;
অবকাঠামো ও প্রযুক্তি;
সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা;
মূল্যস্ফীতি ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা।
ভাইভায় বলার মতো উত্তর
“কোনো দেশের মুদ্রার বিনিময়মূল্য বাড়লেই দেশটি উন্নত হচ্ছে বলা যায় না। মুদ্রার মূল্য সুদের হার, রিজার্ভ, রপ্তানি, মূলধনপ্রবাহ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতির কারণে পরিবর্তিত হয়। একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন নির্ধারণে মাথাপিছু প্রকৃত আয়, উৎপাদনশীলতা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য, বৈষম্য ও মানব উন্নয়ন সূচক বিবেচনা করতে হয়। তাই শক্তিশালী মুদ্রা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি লক্ষণ হতে পারে, কিন্তু এককভাবে উন্নয়নের প্রমাণ নয়।”