তারিখ: ২২/০৪/২০২৫
বোর্ড: বিজ্ঞ সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আনোয়ারুল ইসলাম স্যার।
বিষয়: মার্কেটিং [বোথ ক্যাডার]
ক্রম: ০০৫
সময়: ১৫ মিনিট +
প্রবেশের অনুমতি চাইলাম
M: So you are MR. ---. Please take your seat. MR---- indroduce yourself first, in English preferred, but you may use any language. Do it briefly, don't use that much words.
আমি: এটা অনেক আগে থেকেই ইংরেজিতে নোট করে রেখেছিলাম। মাঝে মাঝে দেখতামও। সাবলীলভাবেই বলতে পেরেছিলাম।
M: আপনার ক্যাডার চয়েস? প্রথম তিনটা জিজ্ঞেস করলেন আমি বললাম। এরপর E1 এর কাছে ফ্লোর ছেড়ে দিলেন।
E1: আপনি তো বিবিএ এমবিএ করেছেন। বলেন আপনি ট্যাক্স দেন কিনা?
ভাবলাম ইমকাম ট্যাক্সের কথা জিজ্ঞেস করছে। আমি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার দরুণ ই টিনের ব্যাপারটি বলেতে চাচ্ছিলাম যে আমরা ই-টিন রেজিষ্ট্রেশন করেছি। উনি শুরু করতেই থামিয়ে দিলেন। বললেন আপনি শুধু এটা বলেন যে ট্যাক্স দেন কি দেন না?
তখন ভাবলাম যে ভ্যাটের কথা জিজ্ঞেস করছে, তাই বলে দিলাম যে হ্যা স্যার দিই। উনি হ্যা সূচক মাথা নাড়লেন, তারপর বললেন যে, বলেন একজন রিকশাওয়ালা ট্যাক্স দেয় কিনা?
আমি বললাম দেয়। উনি বললেন কিভাবে দেয় বলুন তো। আমি বললাম যে যেকোনো পণ্য কিনলে যে ভ্যাট দেয় সেটাই হলো এক ধরণের ট্যাক্স, যাকে ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স বলে।
এরপর বললেন যাদের উপর ট্যাক্স প্রযোজ্য কিন্তু ট্যাক্স দিচ্ছেনা তাদের নিকট হতে ট্যাক্স আদায় করবেন কিভাবে?
আমি: স্কোপ অফ ট্যাক্স বাড়ানো অর্থাৎ শ্রমজীবী যাদের ইনকাম ট্যাক্সের নিম্নসীমার উপরে তাদেরকে ট্যাক্সের আওতায় নিয়ে আসা। ট্যাক্স অফিস উপজেলা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা বা চালু করা; মনিটরিংকে বৃদ্ধি করা, এতে উনি কনভিন্সড হলেন না, আরো বললাম যে যারা ট্যাক্স দিচ্ছেনা তাদেরকে আইনের আওতায় আনা, জরিমানা করা, এতেও উনি কনভিন্সড হলেন না, তাই আরো যোগ করলাম যে, ট্যাক্স সার্ভিসে যিনি ট্যাক্স ইন্সপেক্টর থাকেন যার কাজ ফিল্ডে গিয়ে ট্যাক্স এর ব্যাপারটা ইনভেস্টিগেট করা, তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট যারা ট্যাক্স দিচ্ছে না তাদের ব্যাপারে রিপোর্ট সাবমিট করবেন এবং এভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ পরবর্তী পদক্ষেপ নিবেন।
এতেও উনি কনভিন্সড হলেন না। এরপর এরপর উনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন বলেনতো ই-টিন কোথায় কোথায় লাগে? আমি উত্তর করলাম ট্রেড লাইসেন্সে, পাসপোর্টে। তখন উনি বললেন যে এক্ষেত্রে উনাকে জিজ্ঞেস করা হয় যে আপনি ট্যাক্স দিয়েছেন, অথবা টিন সার্টিফিকেট থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় যে সে ব্যক্তি ট্যাক্স দিচ্ছে কিনা। অর্থাৎ সরকারি বিভিন্ন সার্ভিস নিতে গেলে টিন সার্টিফিকেট এর প্রয়োজন হচ্ছে এখন যেখান থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় যে ব্যক্তি ট্যাক্স দিচ্ছে কিনা এই পয়েন্টটাই মূলত মূলত উনি জানতে চেয়েছিলেন।এরপর উনি ফ্লোর ছেড়ে দিলেন।
E2: তো আপনি মিস্টার অমক ও আপনার প্রথম চয়েজ ফরেন এফেয়ার্স, what is the difference between Ambassador and High Commissioner?
Me: Both are same and their functions are also same but in case of Commonwealth States it's called High Commissioner and other than the Commonwealth States it is called Ambassador.
E2: আপনাকে একটি এমব্যাসিতে নিয়োগ দেয়া হলে মার্কেটিং এর জ্ঞানকে কিভাবে কাজে লাগাবেন?
আমি: Negotiation, Branding, Presentation এ মার্কেটিংয়ের ছাত্ররা অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকে কারণ তারা এই বিষয়গুলি থিউরিটিক্যালি এবং প্রাকটিক্যালি জেনে থাকে এছাড়াও গ্রিন মার্কেটিং, সোসাইটাল মার্কেটিং, সাসটেইনেবল মার্কেটিং এর জ্ঞানকে তারা কাজে লাগাতে পারে।
E2: labor Migration' এর নাম শুনেছেন?
আমি: আমি স্যারের কাছে জিজ্ঞেস করলাম যে স্যার আমরা বাইরে যেয়ে রপ্তানি করি এটাকেই তো labor migration বোঝাচ্ছেন, তো উনি হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লেন।
E2: যে আমাদের দেশ থেকে যে শ্রমশক্তি পাঠানো হয় তারা থেকে খুবই দুর্বল তো আপনি এমবাসিতে গিয়ে উদ্যোগ নিবেন যার কাজ যার ফলে আমাদের দেশে রেমিটেন্সটা বৃদ্ধি পায়?
আমি: যে দেশে আমাকে পাঠানো হবে ওই দেশের ইকনোমিক ডিসিশন মেকার যারা আছে তাদের সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করতে পারি এছাড়াও তাদেরকে আমাদের দেশে বিনিয়োগ করার জন্য কনভিন্স করতে পারি।
E2: 'Window Shopping' কী?
আমি: সরি স্যার, আমি এটা জানিনা।
E2: চাহিদা যোগান কী বুঝেন?
আমি: জ্বি স্যার।
E2: বলেন তো কী?
আমি: আসলে এটা খুবই কমন একটা টার্ম সবাই এটা বুঝে ওই মুহূর্তে থিওরিটিক্যালি কি কিভাবে দুইটা জিনিসকে তুলে ধরব তা বুঝে উঠতে পারছিরাম না; মাথায় কাজ করছিল না। তো আমি কয়েক সেকেন্ড ভেবে উত্তর করতে গেলেই স্যার স্কিপ করে পরের প্রশ্নে পরের প্রশ্নে চলে যায়।
E2: একটি Sun ব্র্যান্ডের পানির বোতল দেখিয়ে স্যার আমাকে প্রশ্ন করলেন, বাজারে এটার চাহিদা আছে কিনা কীভাবে বুঝবেন?
আমি: মার্কেট রিসার্স বা বাজার গবেষণা করে।
E2: আচ্ছা আপনি তো মার্কেটিং এর ছাত্র, ধরুন আপনি এই পানির উৎপাদক আপনার ডিলারদের নিকট কিভাবে এই পানি সেল করবেন?
আমি: এটার কোয়ালিটি, ফিচারস, ডিজাইন, উপাদান ইত্যাদি তাদের কাছে তুলে ধরবো এবং অন্যদের থেকে এটা ভালো তা বুঝাবো।
E2: বাজারে তো সরকারি পানির বোতল 'মুক্তা' ও আছে, ওটা না নিয়ে আপনারটা কেন নিবে?
আমি: বুঝলাম আগের উত্তরে সন্তুষ্ট হননি। আমি বললাম এটার বর্তমান ব্র্যান্ড ভ্যালুকে কাজে লাগাতে হবে। যেমন কোঁকা কোলা বা পেপসি ওরা যখন 'কিনলে' ব্র্যান্ডকে বাজারে ছাড়লো তাদের বর্তমান ব্র্যান্ড ভ্যালুকে কাজে লাগিয়ে ডিলারদের কাছে পুশ মার্কেটিং করতে পেরেছে। তাই আমাদের কোন বর্তমান ব্রান্ড ভ্যালু থাকলে সেটাকে কাজে লাগিয়ে ডিলারদের নিকট পুশ মার্কেটিং স্ট্রাটেজি প্রয়োগ করতে হবে।
E2: আচ্ছা আপনার সেকেন্ড চয়েজ তো বিসিএস এডমিনিস্ট্রেশন তাই না?
আমি: জ্বী স্যার।
E2: ধরুন আপনি একটি জেলার ইউএনও এখন আপনি সার্ভিস সেল করবেন সার্ভিসটা কি হবে? আপনি সেই সার্ভিসকে কিভাবে সেল করবেন?
আমি: স্যার একটি উপজেলার ইউএনও হিসেবে সার্ভিসটি হবে সরকারের নিকট থেকে যে সার্ভিস গুলো ইউএনও দপ্তরে আসে সেই সার্ভিস গুলো জনগণের নিকট পৌছে দেওয়া।
এবং সার্ভিসটি আমি যেভাবে সেল করতে পারি তার একটি হচ্ছে 'সিটিজেন চার্টার' সকল সরকারি অফিসের যে এন্ট্রি গেইট থাকে ওখানে একটি বোর্ডে ওই অফিস কর্তৃক যে সেবাগুলো প্রদান করা হয় তা লিপিবদ্ধ থাকে। তো জনগণের যে অংশ সেবা নেওয়ার জন্য অফিসে শরণাপন্ন হবে তারা সিটিজেন চার্টার থেকে জানতে পারবে যে কি কি সেবা এখান থেকে দেওয়া হয় আর যারা এখানে উপস্থিত হবে না তাদেরকে মাইকিং বা ক্যাম্পেইন এর মাধ্যমে আমার সেবা গুলো তাদের জানাতে পারি এবং তাদের নিকট সেল করতে পারি। এরপর E2 ফ্লোর ছেড়ে দিলেন।
M:আচ্ছা মিস্টার অমক আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড তো মার্কেটিং তো বলুন, What is positioning?
আমি: positioning is occupying a clear and specific place in the mind set of a customer. বাংলাতে বললাম মাথায় জায়গা করে নেওয়া।
M: আচ্ছা আপনার ফার্স্ট চয়েজ তো ফরেন অ্যাফেয়ার্স তো বলুন, what is extradition?
আমি: it is the agreement between two countries to exchange criminals.
M: বাংলাদেশ কি ইন্ডিয়া, নেপাল এবং ভুটানের সাথে এক্সট্রাডিশন করতে পারবে?
আমি: পূর্বে থেকে যদি তাদের তাদের নিকট এক্সট্রাডিশন চুক্তি থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই এক্সট্রাডিশন করতে পারবে স্যার।
M: জুলাইয়ের পর যারা পলায়ন করে ইন্ডিয়াতে আছে তাদেরকে কি আমরা এই চুক্তির মাধ্যমে ফিরিয়ে আনতে পারবো?
আমি: হ্যাঁ স্যার, ইন্ডিয়ার সাথে অলরেডি আমাদের এক্সট্রাডিশন চুক্তি আছে, তো আমরা তাদেরকে এই চুক্তির মাধ্যমে অবশ্যই ফিরিয়ে আনতে পারবো।
M: একটি দেশের সিকিউরিটির কথা বিবেচনা করলে কোনটি বেটার ট্রানজিট না ট্রান্সশিপমেন্ট?
আমি: আসলে স্যার যে সিকিউরিটির কথা বলেছিল ওটা আমি মিস করে গেছিলাম।তাই Cost Efficiency এর কথা চিন্তা করে উত্তর দিয়েছিলাম ট্রানজিট। তো স্যার এ পর্যায়ে নিজেই আমাকে হেল্প করলেন বললেন যে দেখেন আপনি আপনার উত্তরে সঠিক হতে পারেন আমি কিন্তু আমি একটা 'দেশের সিকিউরিটির' কথা বলেছি।তখন আমার ভুল ভাঙলো, ভাবলাম যে যেহেতু সিকিউরিটির ব্যাপার, তাহলে ট্রান্সশিপমেন্ট বেটার হতে পারে, তো আমি এটাই উত্তর করলাম, স্যারকে বললাম স্যার ট্রন্সশিপমেন্ট বেটার হতে পারে।
M: কিভাবে বলুন তো?
আমি: স্যার ট্রান্সশিপমেন্ট এর ক্ষেত্রে আমরা যেটা দেখি যখন Country Change হয় তখন Transportation Mode থেকে শুরু করে এভরিথিং চেঞ্জ হয়ে যায় অর্থাৎ সবকিছু নিজ দেশের এখতিয়রে থাকে। তো সেদিক থেকে চিন্তা করলে ট্রান্সশিপমেন্ট ই বেটার অপশন।
M: আপনার জন্য শেষ প্রশ্ন। আচ্ছা আপনি আপনার হবিতে বলেছেন যে, ট্রাভেলিং পছন্দ করেন। তো বলুন তো ইবনে বতুতা যখন বাংলাদেশে এসেছিলেন তখন তিনি বাংলাদেশকে কি নামে আখ্যায়িত করেছিলেন?
আমি: আসলে এটি এই প্রশ্নটি প্রিলির জন্য একটা কমন বিষয়। বেশ দীর্ঘ একটা সময় আগে আমিও এটা পড়েছিলাম কিন্তু ওই সময় এটা মনে করতে পারছিলাম না আমার কাছে শুধু জাহান্নাম মনে আসছিলো। তো এতটুকই স্যারদের সামনে কয়েকবার উচ্চারণ করলাম এবং পরবর্তীতে একটু হেঁসে বললাম যে, স্যার এই মুহূর্তে মনে করতে পারছি না। [সঠিক উত্তর: ধন সম্পদে পূর্ণ নরক]
M: মিস্টার অমক বলুন তো আপনার মধ্যে এমন কোন ব্যাড এট্রিবিউট আছে কিনা যেটা ফরেন সার্ভিসের সাথে contradict করে?
আমি: স্মিত হেঁসে একটু সময় নিয়ে বিনয়ের সুরে স্যার সবকিছু ঠিক আছে স্যার।
M: একটু হেঁসে, ঠিকাছে মি অমক, It was nice interacting you. Best of Luck. আপন্র কাগজপত্র গুলো নিন।
আমি: Thank you sir. কাগজপত্র নিয়ে সকলের সাথে eye contact করে, হাঁসিমুখে সালাম দিয়ে বিদায় নিলাম।
বোর্ড খুবই আন্তরিক এবং হেল্পফুল ছিলো।
Free